আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম প্রায় স্থিতিশীল ছিল। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। এর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরমাণুবিষয়ক আলোচনা এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার ত্রিপক্ষীয় শান্তি বৈঠক। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ২৩ সেন্ট বা দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৬৮ ডলার ৪২ সেন্টে। এর আগে সোমবার পণ্যটির দাম ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছিল।
অন্যদিকে এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলে ৬৮ সেন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৩ ডলার ৫৭ সেন্টে পৌঁছেছে। তবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ‘প্রেসিডেন্টস ডে’র ছুটি থাকায় বাজারে জ্বালানি তেলের কোনো আনুষ্ঠানিক দর নির্ধারিত ছিল না। ফলে গতকালের এ দামের সঙ্গে সোমবারের বাজার পরিস্থিতির প্রভাবও যুক্ত রয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গতকাল এশিয়ার অনেক দেশে চান্দ্র নববর্ষের ছুটি ছিল। চীন, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো বড় বাজারগুলো বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের লেনদেন ছিল তুলনামূলক কম।
বিনিয়োগকারীদের মূল নজর এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের দিকে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বা সংঘাত বাড়লে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল রফতানি হয়। এটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার দিকেও নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা। যদি কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান আসে, তবে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হতে পারে। এ কারণে রুশ জ্বালানি তেল পুনরায় বিশ্ববাজারে সহজলভ্য হবে, যা দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবা বলেন, ‘বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে এ আলোচনার অগ্রগতি ও সুরের ওপর নির্ভর করছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণেই জ্বালানি তেলের দাম এখনো একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কূটনৈতিক সংকেতগুলোর কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। এ কারণে চাহিদা ও সরবরাহের সাধারণ নিয়মের চেয়ে আলোচনার খবরের ওপর ভিত্তি করে দামের বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
জেনেভায় গতকাল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরমাণু বিরোধ নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনকে অবাস্তব দাবি জানানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ওমানের মধ্যস্থতায় এ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার অংশ নিচ্ছেন। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
এদিকে সোমবার হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরান। উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এ বিরোধ মেটাতে কূটনীতির ওপর জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া জেনেভায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যেও নতুন দফার শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।